1. techcampus24@gmail.com : Tech Campus :
তড়িৎ ও ইলেক্ট্রনিক প্রকৌশল কি? কেন এ বিষয়ে পড়ালেখা করবেন। - Tech Campus
বুধবার, ২৫ নভেম্বর ২০২০, ১১:০১ পূর্বাহ্ন
Notice:
Welcome! Website in progress, contact us if you need any kind of website. Thanks

তড়িৎ ও ইলেক্ট্রনিক প্রকৌশল কি? কেন এ বিষয়ে পড়ালেখা করবেন।

  • Update Time: শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২০
  • ৬১ Read Times

তড়িৎ ও ইলেক্ট্রনিক প্রকৌশল বা ইলেক্ট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেক্ট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং প্রকৌশল পেশার একটি প্রধান শাখা যা মূলত তড়িৎ, ইলেক্ট্রনিক্স ও তড়িচ্চুম্বকত্ব নিয়ে কাজ করে। উল্লেখযোগ্য পেশা হিসেবে তড়িৎ প্রকৌশল আত্মপ্রকাশ করে উনবিংশ শতাব্দীর শেষ ভাগে, যখন টেলিগ্রাফি এবং বিদ্যুৎশক্তির ব্যবহার জনপ্রিয় হয়ে উঠতে শুরু করে।

বর্তমানে তড়িৎ প্রকৌশলের ব্যাপ্তি বিদ্যুৎশক্তি, নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, ইলেকট্রনিক্স, টেলিযোগাযোগ সহ আরও কিছু উপশাখা জুড়ে বিস্তৃত। যখন শুধু তড়িৎ প্রকৌশল বলা হয় তখন মূলত যে শাখা বড় আকারের বৈদ্যুতিক ব্যবস্থা বা যন্ত্রপাতি যেমন বিদ্যুৎশক্তি সঞ্চালন, বৈদ্যুতিক মোটর নিয়ন্ত্রণ ইত্যাদি সংক্রান্ত কার্যাবলী সম্পাদন করে তাকে বোঝানো হয়।

অন্যদিকে ক্ষুদ্র আকারের বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি যেমন কম্পিউটার, সমন্বিত বর্তনী ইত্যাদি ইলেক্ট্রনিক প্রকৌশলের অন্তর্গত। অন্য কথায় তড়িৎ প্রকৌশলীগণ সাধারণত শক্তি সঞ্চালনের জন্য বৈদ্যুতিক ব্যবস্থাকে কাজে লাগান আর ইলেক্ট্রনিক প্রকৌশল প্রকৌশলীগণ তথ্য আদানপ্রদানের কাজে বিদ্যুতশক্তিকে ব্যবহার করেন।

মৌলিক তত্ত্বের দিকটি বিবেচনা করলে বলা যায়, তড়িৎ প্রকৌশলে পরিবাহীর মধ্য দিয়ে বিদ্যুৎ প্রবাহ নিয়ে আলোচনা করা হয় এবং ইলেক্ট্রনিক প্রকৌশলে অর্ধপরিবাহী এবং অন্তরকের মধ্য দিয়ে প্রবাহ নিয়ে আলোচনা করা হয়।

একজন তড়িৎ প্রকৌশলীর কাজটা কি ?
গ্লোবাল পজিশনিং সিস্টেম থেকে শুরু করে বিদ্যুৎশক্তি উৎপাদন পর্যন্ত তড়িৎ প্রকৌশলীরা প্রযুক্তির একটি বিশাল স্থান দখল করে আছেন। তারা বৈদ্যুতিক ব্যবস্থা এবং ইলেকট্রনিক যন্ত্রাংশের নকশা প্রণয়ন, আবিষ্কার বা উদ্ভাবন, নিরীক্ষণ এবং রক্ষণাবেক্ষণ করে থাকেন। উদাহরণ স্বরূপ বলা যায় তাঁরা টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থার নকশা প্রণয়ন করতে পারেন, বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের কার্যক্রম দেখাশুনা করতে পারেন, ঘরবাড়ির আলো ও বিদ্যুৎ বন্টন ব্যবস্থা দেখাশুনা করতে পারেন, গৃহকর্মে ব্যবহার্য যন্ত্রের নকশা প্রণয়ন করতে পারেন অথবা শিল্পকারখানার যন্ত্রপাতির বৈদ্যুতিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পারেন।

তড়িৎ প্রকৌশলীদের কাজের স্থান তাদের কাজের ধরনের মতই বিভিন্ন রকম হয়ে থাকে। ইলেকট্রনিক যন্ত্রাংশ তৈরির কারখানার পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন অত্যাধুনিক গবেষণাগারে যেমন তড়িৎ প্রকৌশলীদেরকে দেখা যায়, তেমনি তড়িৎ প্রকৌশলীদেরকে পাওয়া যায় কোন পরামর্শ প্রদানকারী সংস্থার কর্মকর্তা হিসেবে অথবা কোন ভূ-গর্ভস্থ খনিতে। কর্মক্ষেত্রে তড়িৎ প্রকৌশলীগনকে প্রায়ই বিজ্ঞানী, ইলেকট্রিশিয়ান, কম্পিউটার প্রোগ্রামার বা অন্যান্য প্রকৌশলী ইত্যাদি বিভিন্ন পেশার লোকজনদের কাজকর্ম দেখাশোনা করতে হয়।

প্রধান প্রধান প্রয়োগক্ষেত্র
তড়িৎ প্রকৌশলের অনেক শাখা রয়েছে, তার মধ্যে নিম্নোক্ত শাখাগুলো সর্বাপেক্ষা পরিচিত। অনেক তড়িৎ প্রকৌশলী এগুলোর একটি শাখায় কাজ করলেও অনেকেই আবার একাধিক শাখার সমন্বয়ে কাজ করেন।

১) বিদ্যুত উৎপাদন ও বন্টন (Power Generation & Distribution System) – বিদ্যুৎ উৎপাদন ও বন্টনের ক্ষেত্রে প্রথমেই যেটা মাথায় আসে তা হচ্ছে জেনারেটর। যেখানে মেকানিক্যাল শক্তি থেকে বিদ্যুৎকে উৎপন্ন করা হচ্ছে এরপরে ট্রান্সফর্মার, তার, সার্কিট ব্রেকার, ফিউজ, সুইচ, ইত্যাদি নানা ইলেক্ট্রিকাল ইকুইপমেন্ট ব্যবহার করে বিদ্যুতকে মানুষের ঘরে বা কারখানায় বন্টন করাই হচ্ছে এই বিভাগের প্রধান কাজ। এই সব বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতির পরিচালনা, মেইন্টেইন্যান্স, নির্ভরযোগ্যতা নিশ্চিত করা এই ক্ষেত্রে খুবই গুরুত্বপূর্ণ, কারণ আমাদের লক্ষ্য থাকবে উৎপাদিত বিদ্যুৎ নির্বিঘ্নে এবং যতটা সম্ভব নিরাপদ ভাবে ক্রেতার কাছে পৌঁছে দেওয়া।

২) বিদ্যুত ব্যবস্থার নিরাপত্তা (Power System Protection) উৎপাদন কেন্দ্র থেকে আমাদের বাসা পর্যন্ত বিদ্যুতকে পৌঁছে দিতে যে কত ধাপ পার হতে হয় , একজন ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার না হলে তা কল্পনা করাটাও কারও জন্য অসম্ভব হতে পারে, এই বিভিন্ন ধাপের যে কোন একটি ধাপ যে কোন সময় ফেইল করতে পারে , বিপর্যস্ত করতে পারে সম্পূর্ণ বিদ্যুত বিতরন ব্যাবস্থা , তাই নিতে হয় যথাযথ নিরাপত্তা ও বিপর্যয় পূর্ববর্তী ব্যাবস্থা। এই বিষয়টি সম্পর্কে পড়াশোনা করা হয় এই বিভাগে।

৩) স্বয়ংক্রিয় নিয়ন্ত্রন (Automatic Control Systems) স্বয়ংক্রিয় নিয়ন্ত্রন করার যন্ত্র সাধারণত বিভিন্ন ধরণের সেন্সরের সমন্বয়ে গঠিত হয়। যেমন, শীতাতপ নিয়ন্ত্রক যন্ত্র। ঘরের তাপমাত্রাকে একটি নির্দিষ্ট লেভেলে রাখতে যদি একটা নির্দিষ্ট সেটপয়েন্ট তৈরি করা হয়, তাহলে ঘরের তাপমাত্রা যদি ঐ সেটপয়েন্ট এর উপরে উঠে যায় তাহলে যন্ত্রটি টেম্পারেচার সেন্সরের মাধ্যমে তা অনুধাবন করে এয়ার কন্ডিশনার ইউনিটকে চালু করে দিবে।

কিংবা কোন একটি ফ্যাক্টরি যেখানে কোন একটি পণ্য পুরোপুরি স্বয়ংক্রিয় ভাবে প্রস্তুত হচ্ছে , প্রস্তুত শেষে হয়তবা প্যাকেজিংও হয়ে যাচ্ছে স্বয়ংক্রিয় ভাবে। বিমানের অটোপাইলটের মতন ফাংশনও এর আরেকটি বড় উদাহরণ। অটোপাইলটের সফটওয়্যার বিমানকে নিজে নিজে চালাতে পারে। বাতাসের গতি, বিমানের গতি, ভাইব্রেশন সেন্সর, দিক নির্দেশক ইত্যাদি অনেক কিছুর সমন্বয়ে তৈরি হয় এমন জটিল একটি কন্ট্রোল সিস্টেম।

৪) সংকেত নিয়ন্ত্রন এবং যোগাযোগ (Signal Processing and Communication) – এই ক্ষেত্রটির সাথে প্রায় সবাই বেশ পরিচিত। টেলিভিশন, টেলিফোন, স্যাটেলাইট, মোবাইল ফোন এ সবই এই ক্ষেত্রের আওতায় পড়ে। ডিজিটাল ছবি থেকে শুরু করে আমাদের ভয়েসকে ডিজিটাল সিগন্যালের রূপদান করা অথবা কোন একটা জটিল সিগন্যাল থেকে ছবি , ভয়েস বা কোন তথ্য উদ্ধার করার পদ্ধতিই হচ্ছে Signal Processing, যোগাযোগ মাধ্যমে এর কত ব্যাপক প্রয়োগ থাকতে পারে তা সহজেই অনুমেয়।

৫) টেলিযোগাযোগ , মোবাইল সেলুলার (Telecommunication & Mobile Cellular Communication) – নামই বলে দিচ্ছে কি কাজ এই বিষয়ের, বলতে গেলে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে সবচাইতে ভালো সুযোগ সুবিধার চাকুরীগুলো পাওয়া যায় এই বিষয়েরই, বড় বড় নামকরা সব কোম্পানিতেই আমাদের ইউনিভার্সিটির গ্র্যাজুয়েটদের পাওয়া যাবে অনায়েসেই।

এই সাবজেক্টে শেখানো হয় কিভাবে টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা স্থাপন করা যায় , কিভাবে মোবাইল সেলুলার টেকনোলোজি ব্যবহার করে আজকালকার মোবাইল ফোনগুলো কাজ করছে, কিভাবে ডাটা Encryption (Cipher) ও Decryption (Deciphering) করা হয়, ডাটা কিভাবে স্যাম্পলিং ও ক্যারিয়ার ফ্রিকোয়েন্সিতে মডুলেট হয়ে মোবাইল থেকে টাওয়ারে চলে যায় এমন ইন্টারেস্টিং অনেক কিছু।

৬) মাইক্রোওয়েভ যোগাযোগ (Communication using Microwave) – বিজ্ঞানের অন্যতম শাখা হচ্ছে মাইক্রোওয়েভ , মাইক্রোওয়েভ একপ্রকার রেডিও ওয়েভ যার ফ্রিকোয়েন্সি অত্যন্ত বেশী (আনুমানিক 3 to 300 GHz, যেখানে আমরা FM Radio শুনি হয়তোবা 87 to 107 MHz এর মধ্যে) আমাদের হাতের মোবাইল থেকে শুরু করে নেভির জাহাজের যোগাযোগ কিংবা স্যাটালাইটের সাথে পৃথিবীর যোগাযোগ হচ্ছে কিন্তু মাইক্রোওয়েভ দিয়েই, এখন পর্যন্ত ব্যাপক গবেষণা চলছে মাইক্রোওয়েভের উন্নতি, ট্রান্সমিটার ও রিসিভারের এন্টেনার সাইজ বা আকৃতি নিয়ে। ওহ আরেকটা কথা, বিমান বা জাহাজের রাডারও কিন্তু কাজ করে মাইক্রোওয়েভ

৭) এনালগ ও ডিজিটাল ইলেক্ট্রনিক্স (Analog & Digital Electronics) – আজকাল হয়তো তড়িৎ কৌশল শুনলে সবার মাথায় আসে ইন্টেল অথবা অ্যাপল অথবা আই.বি.এম এর মতন কোম্পানির নাম। ইলেক্ট্রনিক্সের আছে বেশ কয়েকটি শাখা প্রশাখা , আমরা বি.এস.সি লেভেলে খুবই ব্যাসিক কিছু কোর্স করে থাকি যা কিনা আধুনিক ইলেক্ট্রনিক্সের জনক বলা যেতে পারে।

এনালগ ইলেক্ট্রনিক্স হচ্ছে এমন সব সার্কিট যা কিনা মূলত এনালগ সিগন্যাল নিয়ে কাজ করে, ডিজিটাল ইলেক্ট্রনিক্স আবার এই দিক দিয়ে Boss , সে ডিজিটাল সিগন্যালের কাজতো পারেই, ক্ষেত্রবিশেষে যদি প্রয়োজন হয় তবে এনালগ সিগন্যালকে ডিজিটালে কনভার্ট করে (Quantization) কাজ করতে পারে, ডিজিটাল ইলেক্ট্রনিক্স এর বেসিক ব্যবহার হচ্ছে লজিক গেট নির্মিত সার্কিটগুলোতে, ম্যাসিভ ব্যাবহার হচ্ছে FPGA বা মাইক্রোকন্ট্রোলার সমন্বিত সার্কিটে।

প্রধানত সেমিকন্ডাক্টরের উপর ভিত্তি করে তৈরি করা Transistor, Diode, Mosfet, Opamp, Integrated Circuit ইত্যাদি ব্যবহার করেই বিভিন্ন ইলেক্ট্রনিক যন্ত্র তৈরি করা হয় ( যেমনটা পাওয়া যাবে টেলিভিশন, রেডিও থেকে শুরু করে অ্যাপল এর ল্যাপটপ বা নাসার রকেটের কন্ট্রোল প্যানেলের ভিতর ), সাথে থাকে নিত্যপ্রয়োজনীয় Resistor, Capacitor বা Inductor ।

৮) অপ্টো ইলেক্ট্রনিক্স ও অপটিক্যাল ফাইবার (Opto-electronics & Optical Fiber ) – অপ্টো ইলেক্ট্রনিক্স বলতে এমন সব ইলেক্ট্রনিক ইকুইপমেন্ট বোঝায় যারা অপ্টো মানে আলো নিয়ে কাজ করে , যেমন LED লাইট , কিংবা লেজার লাইট , অপটিক্যাল সেন্সর এমন আরো অনেক কিছু , আমাদের মাউস গুলো যেমন অপটিক্যাল টেকনোলোজি ব্যবহার করে, ক্যামেরার ইনফ্রা-রেড টেকনোলোজি ব্যবহার করে রাতের অন্ধকারে যেমন ছবি তোলা যায় বা ক্যামেরার সেন্সর যেভাবে লেন্সের মাধ্যমে ফোকাস করা আলোকে ইলেক্ট্রনিক সিগন্যালে রুপান্তরিত করে প্রসেসিং এর পর মেমরি কার্ডে জমা করে সবই অপ্টো ইলেক্ট্রনিক্স ফল।

অপটিক্যাল ফাইবার , অপ্টো ইলেক্ট্রনিক্সের একটি অসাধারণ এপ্লিকেশন যা তথ্য প্রযুক্তিতে এখন ব্যাপক ভাবে ব্যাবহার করা হয় কেননা সাধারন তারের চাইতে অপটিক্যাল ফাইবারে তথ্য স্থানান্তর ক্ষমতা হাজারগুন বেশী, সময় লাগে কম (আলোর গতিতে তথ্য যায়), একই সাথে অসংখ্য তথ্য বিভিন্ন কম্পনাংকে পাঠানো যায় কোন রকম ইন্টারফারেন্স ছাড়াই, এছাড়া পাওয়ার কন্সাম্পশনও অত্যন্ত কম।

৯) ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট ডিজাইন (VLSI & IC Fabrication) – এই বিষয়টি বলতে গেলে পৃথিবীতে ইলেক্ট্রনিক্সের অন্যতম দামি শাখা হলেও বাংলাদেশে এই সাবজেক্টের শিক্ষার ক্ষেত্র দুঃখজনক ভাবে সীমিত, বলতে গেলে পুরোটাই সিমুলেশন নির্ভর। তারপরেও শিখবেনা কেন!

সত্যিই যথেষ্ট ভালো লাগবে এই সাব্জেক্টটা কেননা এতদিন বিভিন্ন আই.সি ব্যবহার করে আসলেও কিভাবে আই.সি টা তৈরি হল এইটা রহস্যই ছিলো , কিন্তু এই সাবজেক্টে তুমি শিখতে পারবে কিভাবে একের পর এক ডিফিউশন লেয়ার আর ডিপলেশন থেকে পেয়ে যাচ্ছ চমৎকার সব আই.সি , আর কম্পিউটারে দেখেও নিতে পারবে তোমার আই.সি টা ঠিক মত কাজ করছে কিনা, সত্যিই অসাধারণ মজার একটা বিষয় ছোটখাটো 4 Bit কম্পিউটার তৈরি করে ফেলাও তখন তোমার জন্য কঠিন কোন বিষয় না।

১০) জেনারেটর, মোটর ও ট্রান্সফরমার পরিচালনা, নিরাপত্তা (Generator, Motor & Transformer Driving & Protection) – সবকিছুরই একটা নিয়ম আছে , হুট করে জেনারেটর চালু করে দিলাম আর গ্রীডে কানেকশন দিয়ে দিলাম ব্যাপারটা মোটেও এমন মামুলি বিষয় নয়, এর জন্যও অনেক নিয়ম অনুসরণ করতে হয়, নয়ত ঘটে যেতে পারে বড় ধরনের বিপর্যয়।

একই ব্যাপার ঘটে মোটর চালু করার সময় , বাসা বাড়ির ছোটখাটো মটরের কথা বলছি না, বলছি ফ্যাক্টরি বা প্ল্যান্টে ব্যাবহার হওয়া বিশালাকৃতির মোটর গুলোর কথা যেগুলোর ক্ষমতা অন্তত ১ মেগা ওয়াটের (1MW) উপরে, এইসব মোটর চালু বা বন্ধ করার জন্যও আছে নানা রকম নিয়ম বা মেথড, ট্রান্সফরমার গুলোরও কিন্তু চালু বা বন্ধ করার নিয়ম আছে, নয়ত যেকোন সময় হয়ত পুড়ে যেতে পারে শতকোটি টাকা দামের কোন একটি।

এইসব ব্যাপার ছাড়াও আমাদের বিদ্যুত ব্যাবস্থা যেই রকম Unstable (সাথে আছে শর্ট সার্কিট বা লাইনে বাজ পড়ার আশঙ্কা), প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যাবস্থা না রেখে মেশিন চালু করা আর ওই মেশিনের সুইসাইড নোট লেখার মধ্যে খুব একটা পার্থক্য নেই। তাই এইসব শেখাও আমাদের দায়িত্বের মধ্যে পরে ।

চাকরির বাজার কেমন?
চাকরির বাজার নিয়ে আমি কোন কথা বলবো না। শুধু বলবো EEE হলো একটা Everlasting Subject. যতদিন পৃথিবী টিকে থাকবে অতদিন এর ডিমান্ড কমবে না। দেশে থাকতে পারলে ভালো, যদি তা সম্ভব না হয়, তোমার জন্য আছে বাইরে যেয়ে পড়াশোনা করার অফুরন্ত ক্ষেত্র। দেশে বিদেশে সবজায়গাতেই তোমার সম্মানজনক অবস্থান থাকবে।

চাকরি নেই, হাজার হাজার স্টুডেন্ট হয়ে গেছে, এমন শোনা কথায় কান দিতে যেয়ো না। তোমার যদি যোগ্যতা আর মেধা থাকে, তবে EEE পড়ে তোমাকে একদিনও বসে থাকতে হবে না। তুমি ঠিকই তোমার Deserving পজিশনে যেতে পারবে। মোবাইল অপারেটরসহ দেশের প্রায় সব ইন্ডাস্ট্রিতে ইলেক্ট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়াররা চাকরি করে।

আর স্যালারি? এটাও বলবো না। ইন্টারনেটে সার্চ দিলেই জানতে পারবে। আমার নিজের মতামত হলো স্যালারির উন্মাদনার চেয়ে বিষয়টার প্রতি আকর্ষন থেকেই ইইই তে আসা উচিত।

বাইরের দেশে সুযোগ কেমন:
আমেরিকা, কানাডা, অস্ট্রেলীয়া, জার্মানিসহ প্রায় সকল উন্নত দেশে ইলেক্ট্রিক্যাল ও ইলেক্ট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারদের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।
কোথায় পড়া যেতে পারে তড়িৎ ও ইলেক্ট্রনিক প্রকৌশল বিষয়ে দেশের বেশ কয়েকটি সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ে পড়াশোনার ব্যবস্থা রয়েছে।

এগুলো হলো, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (রুয়েট), খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট), সিলেট শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়, আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ (এআইইউবি), আহসানউল্লাহ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়, ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ (আইইউবি), নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়, ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি চিটাগাং, এশিয়া প্যাসিফিক বিশ্ববিদ্যালয়, ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয় ইত্যাদি।

কেমন যোগ্যতা চাই: চার বছর মেয়াদি বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্সে ভর্তি হতে হলে একজন শিক্ষার্থীর অবশ্যই বিজ্ঞান বিষয়ে পড়াশোনা থাকতে হবে। বিজ্ঞান বিভাগ থেকে যারা এসএসসি ও এইচএসসি পাস করেছে তারা এই বিভাগে ভর্তির জন্য আবেদন করতে পারবে। তবে বিশ্ববিদ্যালয় ভেদে ভর্তির যোগ্যতা ও অন্যান্য নিয়ম ভিন্ন। তাই যার যে বিশ্ববিদ্যালয় পছন্দ সেই বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির বিস্তারিত তথ্যাবলী জেনে নিতে হবে।

সম্ভবত তড়িৎ প্রকৌশলীদের জন্য সবচেয়ে প্রয়োজনীয় দক্ষতা হচ্ছে দৃঢ় গাণিতিক দক্ষতা, কম্পিউটার জ্ঞান এবং তড়িৎ প্রকৌশলের সাথে সম্পর্কিত প্রাযুক্তিক ভাষা ও ধারণা সহজেই আত্মস্থ করার ক্ষমতা। তোমার এইচএসসিতে প্রিয় বিষয় কি ছিলো? উত্তর যদি হয়ে থাকে Math বা Physics তাহলে তোমার EEE পড়া নিয়ে কোন ভয় নেই। তুমি নিঃসন্দেহে এখানে খুব সহজেই মানিয়ে নিতে পারবে।

তোমার যদি Equation Solve করতে মজা লাগে, ফিজিক্স সেকেন্ড পেপারের বিদ্যুতের চ্যাপ্টারগুলো যদি তোমার কাছে অসহ্য না লাগে, তাহলে ইইই তোমাকে হতাশ করবে না কোনদিন। সার্কিট নিয়ে ঘাটাঘাটি করতে মজা লাগে? রোধের সমান্তরাল সন্নিবেশ, হুইটস্টোন কার্শফের অঙ্ক করতে ভালো লাগে? আবারো বলবো ইইই নাও।

তোমার যদি উদ্ভাবনী ক্ষমতা থাকে, আর থাকে লেগে থাকার ইচ্ছা তবে তুমি ইইই পড়ে অনেক বড় কিছু করে দেখাতে পারবে। প্রকৌশলিক invention সবচেয়ে চমকপ্রদভাবে দেখানোর উপযুক্ত জায়গা হলো ইলেক্ট্রিক্যাল এন্ড ইলেক্ট্রনিকস ইঞ্জিনিয়ারিং। তথ্যসূত্র: ইন্টারনেট।

Share This Post

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Read More News in This Category .....
©কপিরাইট 2020
Power by .Mahedi Hasan